কবিতা- ধৃততার চূড়ান্ত সম্ভোগ


"ধৃততার চূড়ান্ত সম্ভোগ"
অধরা হাসান

একটি মিথ্যে, টাইপরাইটারের থেকেও অধিক দ্রুততায়
মৃত্যু ঘটালো অজস্র সত্যের। আকাশে আজ গূঢ় অন্ধকার।
কর্কশ বাতাস। মৃত্যুগন্ধময় পান্থশালা। দক্ষিণের গন্ধরাজ ফুলটি
অতর্কিত মহড়ায় ঢুকে পড়ছে বুকের চূড়ায়। সদানন্দে জানিয়ে যায়
মর্মযাতনার নিবিড় যোগাযোগ। নিজেকে প্রশ্ন করি- আত্মজ,
এতো গভীর রাতে তোমার বুকে নির্জলা বিতৃষ্ণা কেন!
যেন দূরের শবগন্ধে নাভিশ্বাস উঠেছে ক্লেদাক্ত হৃদয়ের!
দারুণ বিচ্ছিন্ন বাতাস আমাদের ঘিরে-
বিউগলের সুর বাজিয়ে যায় ক্লান্ত রাত
আমি দস্তানায় মুড়িয়ে নেই, নিজের নগ্ন দুটি হাত।
তোমার জানা হয়নি, কতো কিছু উহ্য রয়ে গেলো আত্মপ্রবঞ্চনার ভুল সমীকরণে।
সত্য চাঁপাফুলের গন্ধের মতো
সময়ে সে তার অবস্থান ঠিক জানান দেবে।
আর সত্যবাদীর মিথ্যে ভয়ানক, হৃদয়কে খেয়ে ফেলে তা।
গলায় শক্ত কিছু একটা আটকে থাকে। বদ হজমে।
জীবন অবস্থাদৃষ্টে, সে কথা স্মরণ করিয়ে যায় আজ।
সত্য, সহজ ও সুন্দরের কারুকাজ সফলতার উজ্জ্বল ফসিল
অপাপবিদ্ধ বুনো লতার গন্ধ ওতে।

অসংস্কৃত সত্যের মাঝে লুকিয়ে আছে আস্ত একটি পৃথিবী
কিংবা প্রগাঢ় ইতিহাস।
এক বিষণ্ণ রবিবারে তোমার চোখের ছায়ায়
চৈতন্যের তরবারি উঠিয়ে নিজেকে জানালাম-
সত্য ও সুন্দরের যাত্রা সহজ নয়। আবার কঠিনও নয়।
কঠিন হলো এর মহত্বকে, বিশালতাকে, বিনয়কে অর্জন করা।
সুহৃৎ, আমার আত্মজ এই কঠিনের দিকে ধাবিত হয়েই
পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে চায়। শতাব্দীর ইতিহাসে
কিছু প্রিয়মুখ জেগে থাকুক সফলতার উন্মাদিত প্রেরণায়।
শাশ্বত সত্যের কার্নিভালে।
অত:পর এক নরম ভোরে, পাথরঘাটার ক্যাথলিক গীর্জার সামনে
উত্তরণ ঘটবে আমাদের উল্লাসিত অভিশাপের! সত্যের শেষপাতাটি
আন্দোলিত হলে আমরা যুগল পায়ে হেঁটে যাবো চিরায়ত বসন্তের অভিমুখে।


Comments