বায়ুদেবীর ধ্বংসলীলা
---অনাহুত আগন্তুক
কাবিল পরিবহনের
স্ক্যানিয়া গাড়ীটা
অতিব চমৎকার।
পাশাপাশি তিন
সিটের এই
অত্যাধুনিক শীতাতপ
নিয়ন্ত্রিত গাড়ীটিতে
আধুনিক সব
ধরনের ব্যাবস্থাই
আছে। শীতাতপ
নিয়ন্ত্রিত কোচটিতে
উঠার কিছুক্ষণ
পরেই দীপিকা
পাদুকোনের মুভি
“রামলীলা” ছেড়ে
দেওয়া হয়।
পাদুকোনের রামলীলা
কিছুক্ষণের মধ্যেই
যে পাদু-দেবীর
ধ্বংসলীলায় পরিণত
হবে তা
কেই বা
জানতো ?!
মোতালেব সাহেব
একজন ভোজন
রসিক ব্যাক্তি,
উনি সৈয়দপুর
গিয়েছিলেন ভাগিনার
বিয়ে খেতে।
চুড়ান্ত মজা
হয়েছে আর
খাওয়াও হয়েছে
জমপেশ। তিনি
একাই খেয়েছেন
ছয় ছয়টি
রোষ্ট। ঢেঁকুর
আসছে ভালোই।
ইনো খেয়ে
গ্যাস কমানোর
ব্যর্থ চেষ্টা
করা হয়েছে।
কিন্তু কিছুতেই
কিছু হচ্ছেনা।
যাহোক ব্যাবসার কাজে বিয়ের অনুষ্ঠানের রাতেই সৈয়দপুর থেকে ঢাকা ফিরে যেতে হচ্ছে মোতালেব সাহেবকে। এই বিয়ের অনুষ্ঠান থেকেই আরও চারজন ঢাকা যাচ্ছে।
যাহোক ব্যাবসার কাজে বিয়ের অনুষ্ঠানের রাতেই সৈয়দপুর থেকে ঢাকা ফিরে যেতে হচ্ছে মোতালেব সাহেবকে। এই বিয়ের অনুষ্ঠান থেকেই আরও চারজন ঢাকা যাচ্ছে।
ওদিকে চারুকলায়
সদ্য চান্স
পাওয়া ফারাহ
ও তার চার
বান্ধবীও উঠেছে
গাড়ীটাতে। কালকেই
ক্লাশ শুরু
হচ্ছে, তাই
ফিরতে হবে
ওদেরও। ফারাহ’র
এমনিতেই বমি
বমি ভাবটা
বেশী। আর
কোষ্ঠ-কাঠিন্য জনিত
গ্যাসের সমস্যাটাও
আছে।
ওদিকে নোয়াখালীর
বিশিষ্ট আন্ডার
গার্মেন্টস বিক্রেতা
মজনু মিয়্যা
ব্যাবসায়ীক কাজে
উত্তরবঙ্গে এসেছিলেন।
কাল তাকে
ইসলামপুরে যেতে
হবে। আর
সাথে এবার
এসেছিলো তার
খাদক পুত্র
বিশাল। নামেও
যা কাজেও
তা! মাত্র
১২ বছর বয়সেই
৭৫ কেজি ওজন
হয়েছে বিশালের।
“ওর নানার যে কি কাম, কি বুইঝ্যা যে বিশাল নাম দিছিলো, আল্লাহ পাকই জানেন?!!” ভাবলেন মজনু মিয়্যা। উত্তর বঙ্গে গরুর মাংস খেয়ে পেট টইটম্বুর হয়ে আছে বাপ বেটা দুজনেরই। আর শেষ সিঙ্গেল সিটে বসেছেন ৭০ বছর বয়স্ক পান্না সাহেব। রিসেন্টলি উনার পাইলস অপারেশান হয়েছে।
“ওর নানার যে কি কাম, কি বুইঝ্যা যে বিশাল নাম দিছিলো, আল্লাহ পাকই জানেন?!!” ভাবলেন মজনু মিয়্যা। উত্তর বঙ্গে গরুর মাংস খেয়ে পেট টইটম্বুর হয়ে আছে বাপ বেটা দুজনেরই। আর শেষ সিঙ্গেল সিটে বসেছেন ৭০ বছর বয়স্ক পান্না সাহেব। রিসেন্টলি উনার পাইলস অপারেশান হয়েছে।
যাহোক প্রথম কয়েক ঘন্টা ভালোই যাচ্ছিলো। মাঝপথে ফুড ভিলেজে বিরতি দেওয়া হয়। বিশাল ও তার বাবা মজনু মিয়া ফুড ভিলেজের লুক্রেটিভ ভুনা গরুর মাংস আর পরোটা কোন ভাবেই এড়াতে পারেনাই। আর এমন সুস্বাদু খাবার কি এক বাটি খেলে হয় ? ৬-৭ বাটি নিয়া পেট ফুলাইয়া ভুড়ি ভোজন করেন বাপ বেটা।
সিরাজগঞ্জে
ঢুকতেই জ্যামটা
লাগা শুরু
হয়। হিউজ
ট্রাফিক!! প্রথমে
ঢেঁকুর শুরু
হয় বেশ
কয়েকজনেরই। আস্তে
আস্তে ঢেঁকুর,
সবাই প্রথমে
উক-উক করে
ঢেঁকুর তুলা
শুরু করে।
পথটা হলো
নীচ দিয়ে,
উপর দিয়ে
তো শুধু
বাড়তি অংশবিশেষই
বের হওয়ার
কথা। তাই
শুধু কি
ঢেঁকুর দিয়ে
আর কাজ
হবে!! শুরু
হলো বায়ু
বিসর্জন। শুরুটা
করেছিল ফারাহর
বান্ধবী মিষ্টি
সমীরণ, বেচারী
অনেকক্ষণ ধরেই
সহ্য করেছে।
কিন্তু কেউ
জানেনা ব্যাপারটা।
এরপর শুরু
করলেন মোতালেব
সাহেব। ঢেঁকুর
তুলে আর
কত?! বিয়ে
বাড়ীর মাংস,
বুটের ডাল,
চিকেন রোষ্ট
সাথে আবার ঝাল মশলাদার বোরহানির ঝাঁঝ মিলে
মিশে একাকার।
যত ভালো
খাওয়া, তার
দূর্গন্ধও তত
বেশী।
সব
ক্রিয়ারই একটা
বিপরীত মুখী
প্রতিক্রিয়া আছে
- নিউটন সাহেব
বলে গেছেন।
তবে ভালো
কাজ করলে
ভালো ফল
পাওয়া যাবে!
এটাও তো
বলা হয়।
তবে কেন
ভালো জিনিস
খেলে খারাপ
জিনিস বের
হবে?!” - ভাবলেন
মোতালেব সাহেব।
আর ভাবতে
ভাবতেই আরেকবার
“ছাড়লেন”!! উনি
আর সহ্য
করতে পারছেন

Comments
Post a Comment