না। প্র্তি পাঁচ মিনিট অন্তর অন্তর একটা করে “মিসাইল” ছাড়ছেন। এক একটার এক-এক ধরণের কেমিক্যাল কম্পোজিশান!!
গাড়ীতে একজন বায়োকেমিষ্টও ছিলেন। তার নাম প্রাণনাথ গুপ্ত। হরেক পদের কেমিক্যাল রিয়াকশনে প্রাণনাথের প্রাণ নাই হবার উপক্রম! গুপ্ত সাহেব চিন্তা করলেন -
"শালারা নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই অক্সাইড, স্কেটোল, ইনডোল, হাইড্রোজেন সালফাইড, ডাই মিথাইল সালফাইড সব গুলান একলগে ছাড়তাছে! পারমাণবিক বিস্ফোরণ হইয়া যাইবনি!!“
পেছনে বসা পান্না সাহেব চিৎকার করে সুপারভাইজারকে ডাকলেন-
"এই ব্যাক্কল, নাকে কি ছিপি ভইরছত নি? মরি গ্যালে হ্যারফরে কি স্প্রে মাইরবি নি? স্প্রে মার ব্যাক্কল জানি কুনহানকার। অক্ষনই মার... বেকডির সীটের তলে
মার... হগলের পিছে মার... পারলে গ্যাসের লাইনে মার বেশী কইরা, ব্যাডা বলদা জানি
কুনহানকার!!"
সুপারভাইজার একগাদা এয়ার ফ্রেশনার স্প্রে মারে। এয়ার ফ্রেশনারের গন্ধ আর বায়ুর গন্ধ মিলে মিশে একটা বিকট গন্ধ ধারণ করে। এদিকে ফারাহ’র এমনিতেই গাড়ীতে উঠলে ওয়াক্ক-ওয়াক্ক ভাব হয়। এই বিকট গন্ধে তার নাড়িভুড়ির সব কিছু বের হয়ে আসবে বলে মনে হতে থাকে। তার সামনে রাখা পলিথিনে ভকভক করে ওয়াক্ক করে সে।
এদিকে সমানতালে গরুর মাংস খাওয়া বিশাল ও তার বাবা মজনু মিয়্যা গ্যাপে-গ্যাপে গ্যাস ছাড়ছেন। হঠাৎ বিশাল তার বাবাকে বলে-
"আব্বা গো!! হাগু পাইতাছে..."
মজনু মিয়া বলে -
"একটু আগে না হাগলি? খিচ্ মাইরা বইয়া থাক, টাঙ্গাইল আইলে গ্যাস স্টেশানে থামাইতে কমু ....
অহন গ্যাস মারতে থাক।"
অন্যদিকে “কিশোর থ্রিলার” পাঠক কিশোর আবুল চিন্তা করতে থাকে কে গ্যাস ছাড়ল?? ২৭
সিটে থাকা ২৭ জন+ড্রাইভার+সুপারভাইজার+হেল্পার এই ত্রিশজনকে প্রাথমিক ভাবে সন্দেহের তালিকায় নেয় সে। তারপরে একজন একজন করে তালিকা থেকে বাদ দিতে থাকে সে। মেয়েদের প্রতি তার একটু আলগা পিরিত আছে, এই বয়সেই! তাই তালিকা থেকে সব নারীকেই বাদ দেয় সে। কিন্তু সে জানেনা যে ব্যাপারটা ডি৩ সিটে বসে থাকা মিষ্টি সমীরণই ফুস করে শুরু করেছিল!
আবুল যখন তার ক্ষুদে গোয়েন্দাগিরি চালু রেখেছিল, ফারাহ তখন ষষ্ঠবারের মত ওয়াক্ক করে ওঠে! এইবার ঠিক তার বান্ধবী মিনার গায়ে!! বেচারী ফারাহ ওয়াক্ক করতে করতে আরও দুর্বল হয়ে গেছে। এদিকে এয়ার ফ্রেশনার মারতে মারতে শেষ হয়ে গেছে।
পেছনে বসা পান্না সাহেবের এজমার টান উঠে গেছে। উনি সমানে বক বক করেই চলেছেন -
"হালার পুতেরা খাওনের সময় হুঁশ থাকেনা কি বাইর হইবো?! গ্যাসের ফ্যাট্কারী বানায়ালাইছত গাড়ীডারে।"
ওয়াক্ক এর খুশবু, পাদুদেবী আর এয়ার ফ্রেশনারের গন্ধ মিলেঝুলে একটা বিকট গন্ধে ভরে গেছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্ক্যানিয়া গাড়ীটি!! এদিকে বাসটি কালিয়াকৈর পৌছুলে প্রচন্ড বিরক্ত ড্রাইভার চিৎকার দিয়ে হেল্পারকে বলে -
"ওই হালারপুত! আমি আর গাড়ি চালামুনা, প্যাডের ভিত্রে কিমুন জানি করতাছে! ব্যাকডিরে নামা, হেগোরে ক টাংকি খালি কইরা আইতে। আর গাড়িডারে ধো, নতুন এয়ার ফ্রেশনার কিন হালারপুত। নাইলে কইলাম এইহানেই গাড়ি থাইক্যা যাইবো আইজ।"
অগত্যা মধ্য রাতে রাস্তার পাশের ধান ক্ষেতে জামাতের সহিত “টাংকি খালি করন” বিরতি ও ফ্রী “জৈব সার” বিতরন. . .
অগত্যা মধ্য রাতে রাস্তার পাশের ধান ক্ষেতে জামাতের সহিত “টাংকি খালি করন” বিরতি ও ফ্রী “জৈব সার” বিতরন. . .

Comments
Post a Comment